Infinix Note 60 Ultra বাংলাদেশে দাম ও রিভিউ
Infinix Note 60 Ultra বাংলাদেশে দাম, স্পেসিফিকেশন ও রিভিউ
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন বাজারে ঝড় তুলতে আসছে Infinix Note 60 Ultra। লিক তথ্য অনুযায়ী ৭০০০mAh দানবীয় ব্যাটারি, ২০০MP জাদুকরী ক্যামেরা আর স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটির মতো অবিশ্বাস্য সব ফিচারে ভরা এই ফোনটি ২০২৬ সালের সেরা ‘ফ্ল্যাগশিপ ফোন’ হতে যাচ্ছে। মিড-বাজেটে হাই-এন্ড গেমিং পারফরম্যান্স আর প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটির এক পারফেক্ট প্যাকেজ এটি। কেন Infinix Note 60 Ultra বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ফোন এবং এটি কেনা আপনার জন্য কেন সেরা সিদ্ধান্ত হবে, চলুন দ্রুত এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা পরিচিতি
স্মার্টফোন জগতের বর্তমান বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও জোরালো করতে ইনফিনিক্স নিয়ে এসেছে তাদের নতুন ফোন। বিশেষ করে ভালো বাজেট ও প্রিমিয়াম ফিচারের চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখতে তাদের তুলনা নেই। ২০২৬ সালের ৪ঠা মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত এই স্মার্টফোনটি বর্তমানে টেক পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যারা মূলত হাই-এন্ড পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ খুঁজছেন, তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম এই ডিভাইসটি। এই ফোনটি কেবল একটি সাধারণ স্মার্টফোন নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ যা ব্যবহারকারীকে আগামী প্রজন্মের অভিজ্ঞতা দেবে। আধুনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং গেমারদের কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এই Infinix Note 60 Ultra।
বর্তমান সময়ে যেখানে বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো অনেক উচ্চ মূল্যে ফ্ল্যাগশিপ ফোন বাজারে ছাড়ে, সেখানে ইনফিনিক্স বরাবরই সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা স্পেসিফিকেশন দিয়ে থাকে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাজারে আসতে যাওয়া এই ফোনটিতে এমন কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে যা আগে কখনো এই সিরিজে দেখা যায়নি। বিশেষ করে এর স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন এবং বিশাল ক্ষমতার ব্যাটারি স্মার্টফোন প্রেমীদের মাঝে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
ডিজাইন
প্রথম দেখাতেই ফোনটি আপনাকে মুগ্ধ করবে এর প্রিমিয়াম ডিজাইনের মাধ্যমে। ১৬২.৩ x ৭৭.২ x ৭.৯ মিমি ডাইমেনশনের এই ফোনটি ওজনে ২২০ গ্রাম, যা হাতে ধরলে একটি সলিড অনুভূতি দেয়। এর সামনের দিকে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই এবং পেছনে গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ব্যবহার করা হয়েছে যা একে স্ক্র্যাচ এবং হাত থেকে পড়ে যাওয়া জনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। ফোনের ফ্রেমটি অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি যেমন মজবুত, তেমনি দেখতেও আধুনিক। এর পেছনের দিকে একটি ছোট ‘Active Matrix Display’ রয়েছে যা নোটিফিকেশন বা সময় দেখার জন্য বেশ কার্যকর। এই ফোনটি IP64 সার্টিফাইড, ফলে ধুলোবালি এবং পানির হালকা ঝাপটা নিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। নান্দনিক সৌন্দর্যের দিক থেকে Infinix Note 60 Ultra বাজারের যেকোনো দামী ফোনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত।
ডিসপ্লে
স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় ডিসপ্লে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির বিশাল AMOLED প্যানেল যা ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। ফলে স্ক্রলিং বা গেমিং করার সময় আপনি এক অদ্ভুত মসৃণতা অনুভব করবেন। এর ব্রাইটনেস পিক লেভেলে ৪৫০০ নিটস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা প্রখর সূর্যালোকের নিচেও স্ক্রিন পরিষ্কার দেখতে সাহায্য করে। ১২০৮ x ২৬৪৪ পিক্সেল রেজোলিউশন এবং ৪২৯ পিপিআই ডেনসিটি প্রতিটি ছবি ও ভিডিওকে করবে জীবন্ত। চোখের সুরক্ষার জন্য এতে ২৩shared৪ হার্টজ PWM ডিমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আল্ট্রা এইচডিআর সাপোর্ট এবং ১৯.৫:৯ রেশিও মুভি দেখার অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ডিসপ্লের কোয়ালিটি বিচার করলে দেখা যায় যে Infinix Note 60 Ultra ব্যবহারকারীদের এক প্রিমিয়াম ভিজ্যুয়াল জগত উপহার দিতে সক্ষম।
প্রসেসর ও পারফরম্যান্স
যেকোনো ফোনের মূল চালিকাশক্তি হলো তার চিপসেট। এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৪০০ আলটিমেট প্রসেসর, যা ৪ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি। এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম দ্রুতগতির চিপসেট যা ৩.২৫ গিগাহার্টজ ক্লক স্পিড পর্যন্ত কাজ করতে পারে। ফলে মাল্টিটাস্কিং থেকে শুরু করে ভারি কোনো অ্যাপ চালানো সবকিছুই হবে চোখের পলকে। গ্রাফিক্সের জন্য এতে মালি-জি৭২০ এমসি৭ জিপিইউ যুক্ত করা হয়েছে যা হাই-এন্ড গেমিংয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেয়। প্রসেসরের উন্নত অপ্টিমাইজেশনের কারণে ফোনটি দীর্ঘ সময় ব্যবহারে গরম হয় না। যারা প্রফেশনাল লেভেলের পারফরম্যান্স আশা করেন, তাদের জন্য Infinix Note 60 Ultra একটি শক্তিশালী বিকল্প হতে পারে। এর শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং এআই ইন্টিগ্রেশন ফোনটিকে আরও স্মার্ট করে তুলেছে।
RAM ও স্টোরেজ
গতি এবং স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে এতে ১২ জিবি র্যাম দেওয়া হয়েছে। স্টোরেজের জন্য ২৫৬ জিবি এবং ৫িলে জিবি এই দুটি ভেরিয়েন্ট পাওয়া যাবে। যদিও এতে আলাদা কোনো কার্ড স্লট নেই, তবে ২৫৬ বা ৫১২ জিবি স্টোরেজ সাধারণ ব্যবহারের জন্য যথেষ্টর চেয়েও বেশি। এর ইউএফএস (UFS) স্টোরেজ প্রযুক্তি থাকার কারণে ডেটা রিড এবং রাইট স্পিড হবে অনেক বেশি। এর ফলে বড় কোনো ফাইল ট্রান্সফার করতে বা কোনো ভারি গেম লোড হতে সময় লাগবে খুব কম। বড় র্যাম থাকার কারণে ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকগুলো অ্যাপ চালু থাকলেও ল্যাগ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। আপনি যদি প্রচুর ছবি বা ভিডিও ধারণ করেন, তবে এর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি আপনাকে অনেক দিন নিশ্চিন্ত রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় Infinix Note 60 Ultra আপনার প্রতিটি মুহূর্তকে করবে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর।
ক্যামেরা
ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য এই ফোনটি হতে পারে একটি ম্যাজিক বক্স। এর মেইন ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের বিশাল সেন্সর, যাতে রয়েছে ওআইএস (OIS) সুবিধা। ফলে চলন্ত অবস্থায়ও আপনি পাবেন নিখুঁত এবং ঝকঝকে ছবি। সাথে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, যা ৩.৫এক্স অপটিক্যাল জুম সাপোর্ট করে। দূরবর্তী বস্তুর ছবি তোলার সময় এর ডিটেইল আপনাকে অবাক করবে। ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দিয়ে বড় ল্যান্ডস্কেপ শট নেওয়া এখন অনেক সহজ। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যা ৪কে রেজোলিউশনে ভিডিও ধারণ করতে পারে। ভিডিওগ্রাফির জন্য এটি ৪কে ৬০ এফপিএস সাপোর্ট করে এবং জাইরো-ইআইএস থাকায় ভিডিও হয় অত্যন্ত স্ট্যাবল। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির জন্য Infinix Note 60 Ultra এর কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে।

ব্যাটারি ও চার্জিং
ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ হতে চলেছে। ইনফিনিক্স এবার তাদের আল্ট্রা মডেলে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল সিলিকন-কার্বন (Si/C) ব্যাটারি যুক্ত করেছে। যারা সারাদিন বাইরে থাকেন বা গেম খেলেন, তাদের জন্য এটি এক বিশাল পাওয়া। ১০০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধার মাধ্যমে মাত্র ১৮ মিনিটে ৫০% এবং ৪৮ মিনিটে ফুল চার্জ করা সম্ভব। এছাড়াও এতে ৫০ ওয়াটের ফাস্ট ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধাও রাখা হয়েছে। আপনি চাইলে অন্য ডিভাইস চার্জ দেওয়ার জন্য রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং ব্যবহার করতে পারেন। গেমিংয়ের সময় ব্যাটারির সুরক্ষা এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে এতে বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এই পাওয়ারফুল ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকার কারণেই Infinix Note 60 Ultra বর্তমান বাজারে থাকা অন্যান্য ফোনের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে। এটি দীর্ঘ ভ্রমণে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী হবে।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস
ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ইনফিনিক্সের নিজস্ব XOS 16 স্কিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই নতুন ইন্টারফেসটি অনেক বেশি ক্লিন এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি। কোম্পানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ব্যবহারকারীরা ৩টি বড় অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পাবেন, যা ফোনটিকে আগামী কয়েক বছর ব্যবহারের উপযোগী রাখবে। নতুন সফটওয়্যারের সাথে অনেকগুলো স্মার্ট ফিচার এবং উইজেট যুক্ত করা হয়েছে যা আপনার কাজের গতিকে বাড়াবে। নিরাপত্তার জন্য ডিসপ্লের নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি খুব দ্রুত কাজ করে। এছাড়া এতে অনেকগুলো কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে যা আপনার রুচি অনুযায়ী ফোনটিকে সাজাতে সাহায্য করবে। সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের দারুণ সমন্বয় লক্ষ্য করা যায় এই Infinix Note 60 Ultra স্মার্টফোনটিতে। এর ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা হবে প্রিমিয়াম এবং বিরক্তিহীন।
কানেক্টিভিটি ও সেন্সর
বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এতে ৫জি কানেক্টিভিটি দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হলো টু-ওয়ে স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সার্ভিস। থুরায়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনি এমন জায়গাতেও মেসেজ আদান-প্রদান করতে পারবেন যেখানে কোনো মোবাইল টাওয়ার নেই। কানেক্টিভিটির জন্য এতে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই ৬, ব্লুটুথ ৫.৪, এবং এনএফসি সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ইনফ্রারেড পোর্ট থাকার কারণে আপনি ফোনটি রিমোট হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। সেন্সর হিসেবে হার্ট রেট এবং SpO2 সেন্সর স্বাস্থ্য সচেতনদের অনেক কাজে আসবে। অডিও কোয়ালিটির জন্য এতে জেবিএল টিউনড স্টেরিও স্পিকার রয়েছে যা হাই-রেস অডিও আউটপুট দেয়। কানেক্টিভিটি এবং সেন্সরের এমন সমৃদ্ধ সমাহার Infinix Note 60 Ultra কে সত্যিই একটি ‘আল্ট্রা’ লেভেলের ডিভাইসে পরিণত করেছে।
Read More:- ইনফিনিক্স মোবাইল বাংলাদেশ প্রাইস ২০২৬
Infinix Note 60 Ultra এর ভালো ও খারাপ দিক
| ভালো দিক | খারাপ দিক |
|---|---|
| বড় ও স্মুথ ডিসপ্লে | অফিসিয়ালভাবে সব স্পেসিফিকেশন এখনো নিশ্চিত নয় |
| শক্তিশালী প্রসেসর ও ভালো পারফরম্যান্স | ক্যামেরা পারফরম্যান্স সবসময় ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের নাও হতে পারে |
| বড় ব্যাটারি ও দ্রুত চার্জিং | কিছু ভার্সনে 5G নাও থাকতে পারে |
| আধুনিক ডিজাইন ও প্রিমিয়াম লুক | প্লাস্টিক বডি হওয়ার সম্ভাবনা |
| গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য ভালো | দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে হিটিং হতে পারে |
গেমিং পারফরম্যান্স
আপনি যদি একজন গেমিং লাভার হয়ে থাকেন, তবে এই ফোনটি আপনার মন জয় করে নেবে। ডাইমেনসিটি ৮৪০০ আলটিমেট প্রসেসর এবং ১৪৪ হার্টজ ডিসপ্লের কম্বিনেশনে PUBG বা Genshin Impact এর মতো ভারি গেমগুলো অনায়াসেই হাই গ্রাফিক্সে খেলা সম্ভব। এতে থাকা উন্নত কুলিং সিস্টেম দীর্ঘক্ষণ গেমিং করার সময় ফোনকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বিশাল ব্যাটারি এবং বাইপাস চার্জিং ফিচার থাকায় গেম খেলার সময় চার্জ শেষ হওয়া বা ফোন গরম হওয়া নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হবে না। জাইরোস্কোপ সেন্সরটি অনেক বেশি রেসপন্সিভ, যা শুটার গেমে আপনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে। গেম খেলার সময় স্টেরিও স্পিকারের সাউন্ড আপনাকে গেমিং জগতের ভেতরে নিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে Infinix Note 60 Ultra গেমিং পারফরম্যান্সের দিক থেকে বর্তমান সময়ের সেরা ডিল হিসেবে প্রমাণিত হবে।
বাংলাদেশে সম্ভাব্য দাম ও লঞ্চ তারিখ
ইনফিনিক্স ভক্তরা এখন সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন এর দাম এবং লঞ্চের তারিখের জন্য। ২০২৬ সালের ৪ঠা মার্চ এর অফিসিয়াল ঘোষণা আসলেও এটি বাংলাদেশে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বা মে-জুন মাসের দিকে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দামের কথা বললে, আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী এর দাম ভেরিয়েন্টভেদে ৪৫,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকার আশেপাশে হতে পারে। তবে ভ্যাট এবং ট্যাক্সের কারণে বাংলাদেশে দামের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। ইনফিনিক্স সাধারণত তাদের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখে, তাই বলা যায় যে এই বাজেটে এটি একটি গেম-চেঞ্জার ফোন হবে। আপনি যদি নতুন ফোন কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে Infinix Note 60 Ultra এর জন্য অপেক্ষা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Infinix Note 60 Ultra কেনা ঠিক হবে কি না
এই পর্যায়ে প্রশ্ন আসতে পারে, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই ফোনটি কেনা কি আপনার জন্য ঠিক হবে? উত্তর হলো—হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনি যদি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হন তবে এর ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আপনাকে মুগ্ধ করবে। আপনি যদি গেমার হন তবে এর ১৪৪ হার্টজ ডিসপ্লে এবং পাওয়ারফুল চিপসেট আপনার গেমিং অভিজ্ঞতা বদলে দেবে। আর যারা ব্যাটারি নিয়ে টেনশন করেন, তাদের জন্য তো ৭০০০mAh ব্যাটারি রয়েছেই। সব মিলিয়ে এই বাজেটে এতগুলো ফ্ল্যাগশিপ ফিচার অন্য কোনো ব্র্যান্ডে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই আপনি যদি স্টাইলিশ এবং শক্তিশালী স্মার্টফোন চান, তবে Infinix Note 60 Ultra আপনার তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত। এটি আপনার প্রতিটি টাকার সঠিক মূল্য দিতে সক্ষম হবে।
শেষ কথা
ইনফিনিক্স তাদের ‘নোট’ সিরিজের মাধ্যমে সবসময়ই বাজার কাঁপিয়ে থাকে। কিন্তু এবারের এই আল্ট্রা মডেলটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এটি কেবল একটি ফোন নয়, বরং আধুনিক জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য সঙ্গী। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির কথা মাথায় রেখে এটি ডিজাইন করা হয়েছে। আশা করি আমাদের এই বিস্তারিত রিভিউটি আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। প্রযুক্তির সাথে আপডেট থাকতে আমাদের সাথেই থাকুন। পরিশেষে বলা যায় যে, Infinix Note 60 Ultra আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের ধারণা পুরোপুরি বদলে দিতে আসছে। আধুনিক টেকনোলজি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে এই ফোনটি বাজারে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করবে এটাই প্রত্যাশা করা যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা দাম কত?
এখনো অফিসিয়ালি দাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে বাংলাদেশে এর দাম আনুমানিক ৪৫,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকার আশেপাশে হতে পারে।
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা কবে আসবে?
ফোনটি ২০২৬ সালের মার্চে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি ২০২৬ সালের মে বা জুন মাসের মধ্যে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা তে কোন প্রসেসর আছে?
এতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৪০০ আলটিমেট (৪ ন্যানোমিটার) প্রসেসর।
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা ব্যাটারি কত?
এতে রয়েছে দানবীয় ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি যা দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ দেয়।
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা কি 5G?
হ্যাঁ, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ৫জি স্মার্টফোন এবং এতে আরও উন্নত কানেক্টিভিটি ফিচার রয়েছে।
ইনফিনিক্স নোট 60 আল্ট্রা কি গেমিং এর জন্য ভালো?
অবশ্যই! এর ১৪৪ হার্টজ ডিসপ্লে এবং ডাইমেনসিটি ৮৪০০ আলটিমেট চিপসেট একে গেমিংয়ের জন্য সেরা একটি ডিভাইসে পরিণত করেছে।



